লেখকের নাম মোজাফফর হোসেন। আগের বইটা পড়ে ঝাঁকি খেয়েছিলাম, নতুন বইয়ের অপেক্ষায় ছিলাম। ঝাঁকি না এবার, রীতিমতো ঝড়। একটা গল্প একটা দেশ। একটা গল্প একটা গোটা পরিবার। একটা গল্প একটা আস্ত জীবন। আর এভাবেও আজকাল গল্প বলা যায়? এত স্পর্ধা নিয়ে পাঠককে গল্প শেষ করার পর আবারও সেই গল্প পড়ানো যায়? মোজাফফর হোসেনের এই বইটার প্রত্যেক গল্পই কেমন যেন। ঘুমোতে দেয় না। আপনি যদি কারো ফ্যান ফলোয়ার না হয়ে প্রকৃত পাঠক হন, আপনাকে এই বই পড়তে হবে। এই বই আপনাকে অনেকদিন একটা ঘোরের মধ্যে । গল্পগুলো শেষ করে আমি আবার পড়তে শুরু করেছি।
আমার ছোটভাই স্তেভান প্রথম এটা পড়ার সাজেশন দেয় প্রোপারলি। এরপর তো বুকস্টায় অনেক প্রিয় মানুষের কাছে শুনলাম। আমি একদিনে শেষ করবো বলেও দুইদিন নিলাম। কারণ গল্পগুলো সুন্দর। ভাবায়। বইটা সবার জন্য না। সবাই পড়তে পারবেন, তবে এখানে ভায়োলেন্স, রক্তারক্তিসহ আরও কিছু ব্যাপার আছে যেগুলো অনেকের জন্য ট্রিগারিং। বইটায় গল্পগুলো ডার্ক ফিকশন, ডার্ক কমেডি, অবাস্তব, পরাবাস্তব ইত্যাদি ঘরানার।
- Salman Jishan
Instagramনাম দেখে বই কেনা সফল হলো আমার এই প্রথমবার। নামের মতই সুন্দর বই! লেখকের চমৎকার লেখনীতে মুগ্ধ হয়েছি পাতায় পাতায়। ২১শতকের মানুষের ব্যবহার, আচার আচরণ ফলাও করে উঠে এসেছে গল্পগুলোতে।…গল্পগুলো এতো সুন্দর যে মনে হবে আপনি অন্য কোনো জগতে ক্ষণিকের জন্যে হাড়িয়ে গেছেন।…হ্যাঁ, আর ছোট বাচ্চাদের বইটা পড়তে দিবেন না, ভড়কে যেতে পারে।
- Aatrolita George
Instagramনাম দেখে বই কেনা সফল হলো আমার এই প্রথমবার। নামের মতই সুন্দর বই! লেখকের চমৎকার লেখনীতে মুগ্ধ হয়েছি পাতায় পাতায়। ২১শতকের মানুষের ব্যবহার, আচার আচরণ ফলাও করে উঠে এসেছে গল্পগুলোতে।…গল্পগুলো এতো সুন্দর যে মনে হবে আপনি অন্য কোনো জগতে ক্ষণিকের জন্যে হাড়িয়ে গেছেন।…হ্যাঁ, আর ছোট বাচ্চাদের বইটা পড়তে দিবেন না, ভড়কে যেতে পারে।
- Aatrolita George
Instagram‘মানুষের মাংসের রেস্তোরাঁ’র গল্প পড়তে গিয়ে চমকে যাই। বহু বছর পরে বাংলাদেশে এমন রুচির গল্প আমাকে ভাবনার মধ্যে ফেলে দিল। বিশ্ব চলচ্চিত্র লুই বুনুয়েলের (১৯০০-১৯৮৩) ‘দি আন্দালুসিয়ান ডগ’ (১৯২৮) এবং লস অলভিদাদস’ (১৯৫০) চলচ্চিত্র দুটি দেখার সময় যেমন বিব্রতের মধ্যে পড়েছিলাম, যেমন ভাবনার মধ্যে পড়েছিলাম তেমনি পড়লাম ‘মানুষের মাংসের রেস্তোরাঁ’র গল্পগুলো পড়ে।
- হাসান রাউফুন
Identityআমি বাংলা সাহিত্যে এমন কোনো সত্যের সম্মুখীন হই নাই যা পড়ে আমার অস্বস্তি হবে। (অবশ্যই ইন এ গুড ওয়ে)। বইটি-তে ২১টি ছোট গল্পের সংকলন রয়েছে। কিছু গল্প পাঠককে সামাজিক সমস্যা নিয়ে ভাবাবে, কিছু গল্প পাঠকের সচেতনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে, কিছু গল্প পাঠককে ধোঁয়াশার মধ্যে রেখে দিবে। কিন্তু প্রতিটা গল্প-ই পাঠকের উপরে দীর্ঘ সময় আবেশ রেখে যাবে।
- Anika Azad
Goodreadsপ্রত্যেকটা গল্পই অন্ধকারের। রাতের তিমির না, দিন-দুপুরের নিকষ কালো আঁধার। আমাদের চারপাশে ঘটে চলা ঘটনাবলী লেখকের সুনিপুণ দক্ষতায় ধরা দেবে খুবই অস্বস্তিকর উপলব্ধির মধ্য দিয়ে। এবং এটাই বোধহয় লেখকের উদ্দেশ্য ছিল।
- Ifsad Shadhin
Goodreadsপরতে পরতে লেগে আছে ডার্ক ফ্যান্টাসি, ডার্ক হিউমার, ম্যাজিক রিয়েলিজম, এবং এলিগোরির চেহারায় স্যাটায়ারের ছোঁয়া। যা হজম করতে সময় লাগে, যেমন সময় লাগে বইয়ের নামটি হজম করতে। বইটিতে স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের অরাজকতা থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের ডিজিটাল আইনের মধু-বিষ, করোনাকালীন অব্যবস্থাপনা, ধর্ষণ, ধর্মান্ধতা, ইত্যাদি রূপকতা, পরাবাস্তবতা, এবং জাদুবাস্তবতার মোড়কে ব্যঙ্গাত্মকভাবে পেশ করা হয়েছে।
