Mojaffor Hossain

Mojaffor Hossain

Mojaffor Hossain

Fiction Writer & Literary Critic
  • Home
  • About
    • Biography
    • About Me
  • Writings
  • Book Lists
  • Awards List
  • Books
  • Interviews
  • Donate
  • Reader-Opinion
  • Gallery
  • Contact me
Writings Details

বই, বই এবং বই: বই নিয়ে যত তথ্য

Published On October 24, 2024
Mojaffor Hossain
Mojaffor Hossain
Contributor

পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় ৪০ লক্ষ নতুন বই প্রকাশিত হয় বলে একটি পরিসংখ্যান বলছে। ইউনেস্কো অবশ্য সেলফ পাবলিশড বাদ দিয়ে সংখ্যাটা ২৫ লক্ষ বলে জানিয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো পৃথিবীতে এককভাবে সর্বোচ্চ বইয়ের লেখক কে? মার্কিট লেখক রোনাল্ড হাবার্ড নাকি প্রায় ১১০০ বই লিখেছেন। প্রায় ৮০টির মতো ভাষায় অনুবাদ হয়েছে তার বই। সায়েন্স ফিকশন, ফ্যান্টাসির এই লেখক Scientology মুভমেন্টের উদ্যোক্তা। আজ দেখলাম আমার পুত্র আরহাম গল্পের প্রিয় লেখক এনিড ব্লাইটন প্রায় ৮০০টি বই লিখেছেন। তাঁর বই ৬০ কোটির বেশি বিক্রি হয়েছে। আধুনিক কল্পবিজ্ঞানের সুখ্যাত লেখক আইজ্যাক আসিমভ প্রায় ৫০০টির মতো বই লিখেছেন। নেটে দেখলাম স্প্যানিশ লেখক মারিয়া লোপেজ ৪০০০ উপন্যাস লিখেছেন। ব্রাজিলের রিওকি ইনোয়ি লিখেছেন ১১০০ বই। ভাবা যায়??

পৃথিবীতে সবচেয়ে বড়ো বইটি কে লিখেছেন?

বলা হয়ে থাকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো বই হলো মার্সেল প্রুস্তের In Search of Lost Time। সাত খণ্ডে বইটির মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪২১৫। পূর্নাঙ্গ মহাভারত কত পৃষ্ঠার কেই বলতে পারেন? জানি না, তবে তামিল লেখক জয়মোহন ‘মহাভারত’কে উপন্যাসরূপে ২৬ খণ্ডে তামিল ভাষায় রচনা (অ্যাডাপটেশন) করেছেন। ২৫০০০ পৃষ্ঠার এই উপন্যাসটিই সম্ভবত পৃথিবীর দীর্ঘতম বই।

আর সবচেয়ে ধনী লেখক?

বলা হয় জে কে রাউলিং সবচেয়ে ধনী লেখক। আশিটি ভাষায় অনূদিত হয়ে প্রায় ৬০কোটি বই বিক্রি হয়েছে। দ্বিতীয় ধনী লেখক জেমস প্যাটারসন, তৃতীয় জিম ডেভিস, চতুর্থ ডেনিয়েল স্টিল, পঞ্চম গ্রান্ট কারডান, সাত নম্বরে আছেন পাওলো কোয়েলহো, স্টিফেন কিং নয়ে এবং জন গ্রিশাম দশে।

সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া বই নিয়ে বিতর্ক আছে। বাইবেল ও কোরানের পরে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া বইয়ের মধ্যে আছে দন কিহোতে (৫০০মিলিয়ন কপি), টেল অব টু সিটিজ, লর্ড অব দ্য রিংস, দ্য বুক অব মরমন, দ্য লিটল প্রিন্স, হ্যারি পটার, অ্যালিস ইন দ্য ওয়ান্ডারল্যান্ড, দা ভিন্সি কোড ইত্যাদি।

সিরিজ হিসেবে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে হ্যারি পটার, ঘুজবাম্পস, পেরি ম্যাসন, ডাইরি অব এ উইম্পি কিড। এককভাবে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে সম্ভবত শেকসপিয়ার, এরপর আগাথা ক্রিস্টি (২ বিলিয়ন কপি), ডেনিয়েল স্টিল, হ্যারল্ড রবিনস, রাউলিং, এনিড ব্লাইটন, সিডনি শেলডনের মতো লেখকেরা। একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক বিক্রি হওয়া বই হ্যারি পটার, দিনে ৮৩ লক্ষ কপি বিক্রি হয়েছে।

বাইবেল ও কোরানের পর সবচেয়ে বেশি অনুবাদ হওয়া বই হলো দ্য লিটল প্রিন্স। ৩৮৩ ভাষা ও ডায়লেক্টে অনুবাদ হয়েছে বলে নেট থেকে জানা যাচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি লেখক কোন দেশে?

জনসংখ্যার হিসেবে ভারত কিংবা চীনে হওয়ার কথা। জনসংখ্যার গড় হিসেবে আইসল্যান্ডে লেখক বেশি। মাত্র ৩ লক্ষ মানুষের দেশ, গড়ে প্রতি দশজনের একজন পাবলিশড্ অথোর।

সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়া বই কোনটি?

ভিন্সির ৭২ পৃষ্ঠার পাণ্ডুলিপি The Codex Leicester বিল গেটস ৩০.৮ মিলিয়ন ডলারে কিনেছেন। এখনকার হিসেবে বর্তমান মূল্য প্রায় ৬৩.৩ মিলিয়ন ডলার। তার মানে বর্তমান হিসেবে টাকায় ৭৫৬কোটি হয়!! এই টাকায় ঢাকায় ৬০০টা ফ্লাট কেনা যেত!!

সবচেয়ে বেশি সময় ধরে লেখা বই কোনটি? আমি জানি না। তবে অভিধানকে ধরলে, ‘বঙ্গীয় শব্দকোষ’ অভিধানটি তৈরি করতে হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোটা জীবন লেগে যায়। আর নোয়াহ ওয়েবস্টার তাঁর প্রথম ডিকশনারী লিখতে সময় নিয়েছিলেন প্রায় ৩৬ বছর!! লর্ড অব দ্য রিংস লেখা হয় ১৭ বছরে।

আর সবচেয়ে বেশি চরিত্র আছে কোন বইতে জানেন? মহাভারতে সম্ভবত। এই মহাকাব্যে ১২০০-র বেশি চরিত্র আছে!

একক ব্যক্তির উপর সবচেয়ে বেশি বই লেখা হয়েছে সম্ভব হযরত মোহাম্মদ (সা) এবং যিশু খ্রিস্টের উপর। এরপর শেকসপিয়ার ও কাফকার উপর। প্রতিদিন পৃথিবীর কোনো না কোনো ভাষায় কাফকার উপর বই প্রকাশিত হচ্ছে।

পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি বই পড়েছেন কে?

এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সম্ভব না। তবে চন্দ্র মোহন জৈন (আচার্য রজনীশ) দেড় লক্ষ বই পড়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। যদি আমরা ধরে নিই যে তিনি ৪৮ বছর অবিচ্ছিন্নভাবে বই পড়েছেন (তিনি ৫৮ বছর বেঁচে ছিলেন), তাহলে বছরে গড়ে ৩০০০ বই পড়েছে। এইটা কতটা সম্ভব, সে প্রশ্ন তো থেকেই যায়। তাছাড়া কেউ গুণে বই পড়ে না, যারা পড়েন তারা সেটা প্রকাশও করেন না।

বাংলাদেশে সর্বাধিক সংখ্যক বইয়ের লেখক কে হবেন বলে আপনাদের ধারণা: হুমায়ূন আহমেদ, আমীরুল ইসলাম, আসলাম সানী? নাকি অন্য কেউ? তবে পৃথিবীতে একজন ব্যক্তিকে সর্বাধিক সংখ্যক বই উৎসর্গের রেকর্ড সম্ভবত বাংলাদেশে। শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ভাই শিশুসাহিত্যিক ও প্রচ্ছদশিল্পী ধ্রুব দাকে ত্রিশের অধিক বই উৎসর্গ করেছেন, ধ্রুদ দাও অধিকাংশ বই আমীরুল ভাইকে উৎসর্গ করেছেন। চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধা-লেখক রমা চৌধুরীর সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত আলাপে জানতে পেরেছি, তিনি তাঁর ৮টি বই উৎসর্গ করেছেন তাঁর ৮ বেড়ালকে। এক্ষেত্রে রেমন্ড চান্ডলার আরো একধাপ এগিয়ে। তিনি তার বেড়াল টাকিকে তার সেক্রেটারি হিসেবে পরিচিত করিয়ে দিতেন।

বই নিয়ে কথা হলো, এবার লেখকদের নিয়ে দুয়েকটি কথা বলি। আর্নেস্ট হেমিংওয়ে, চার্লস ডিকেন্স, ভার্জিনিয়া উলফ এবং ফিলিপ রথের মতো বড় বড় লেখকেরা টেবিলে দাঁড়িয়ে লিখতেন। তাই বলে নগ্ন হয়ে লেখা? ডেডলাইনের ভেতর লেখা সম্পন্ন করতে ভিক্টর হুগোকে এই কাজ করতে হয়েছে! নগ্ন-থেরাপি কাজে লাগিয়েছেন কাফকাও। তবে কারণটা ভিন্ন। মন সতেজ রাখার জন্য জানালার সামনে নগ্ন অবস্থায় কাফকা ব্যায়াম করতেন বলে জানা যায়।

বিশ্বের বহুল পঠিত কোনো কোনো বই নিয়ে সেই বইয়ের লেখক সন্তুষ্ট ছিলেন না। এমনকি প্রথম খসড়া ছিঁড়েও ফেলেছিলেন কেউ কেউ। যেমন হার্পার লি তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘টু কিল অ্যা মকিং বার্ড’ লেখার পর ভালো হয়নি ভেবে প্রথম খসড়া বাসার জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দেন। রবার্ট লুই স্টিভেনসন তাঁর বিখ্যাত ক্ষুদে উপন্যাস ‘ড. জেকিল অ্যান্ড মি. হাইড’ লেখার পর স্ত্রীকে পড়তে দিলে স্ত্রী পাণ্ডুলিপিটি নষ্ট করে ফেলেন। তবে আমাদের সৌভাগ্য যে স্টিভেনসন সেটি পুনরায় তিনদিনের ভেতর লিখে প্রকাশকের হাতে তুলে দেন। তবে এর আগে অন্য একটি মজার কাণ্ড করেছিলেন স্টিভেনসন। তিনি নিজের জন্ম তারিখটি অ্যানি নামের এক কিশোরীর নামে লিখে দেন। সম্পত্তি লিখে দেওয়ার মতো নিজের জন্ম-তারিখ অন্যের নামে লিখে দেওয়ার নজির বোধহয় এই একটিই। এর কারণ অ্যানির জন্ম-তারিখ পড়েছিল বড়দিনে। যে কারণে বড়দিনের উচ্ছ্বাসে নিজের জন্মদিনের উদযাপনটা ঠিকমতো হতো না বলে অ্যানির ভীষণ আফসোস ছিল। এতে স্টিভেনসন ঘোষণা দিলেন, নিজের জন্মতারিখের আর প্রয়োজন নেই তাঁর। এরপর নিজের জন্ম তারিখটি আইনানুসারে অ্যানির নামে লিখে দেন তিনি। আরেকটা তথ্য দিই, জেমস জয়েসের বিখ্যাত ছোটগল্পের সংকলন ডাবলিনার্স ১০ বছরে ১৫টা প্রকাশনী থেকে ১৮ বার প্রত্যাখ্যাত হয়ে প্রকাশিত হয়। শেষমেশ কে প্রকাশ করে জানেন? প্রথম বার যে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান প্রত্যাখ্যান করেছিলো, সেই প্রকাশনী!! বাকিটা ইতিহাস।

লেখকরা জাতিগঠনে কাজ করেন। আর সেই লেখক যদি স্বদেশের জাতীয় সংগীত ভুলে যান, তাহলে কেমন লাগে? উইলিয়াম রদেনস্টাইন তাঁর ‘মেন অ্যান্ড মেমোরিজ’ গ্রন্থে জানাচ্ছেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ইংল্যান্ড ছেড়ে ভারতে যাওয়ার আগে রদেনস্টাইন এবং ইয়েটস তাঁর জন্য একটা ডিনার পার্টির আয়োজন করেন। ডিনারের পর তাঁরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘বন্দে মাতরম গানটি গাইতে বলেন। রবীন্দ্রনাথ কিছুক্ষণ গুন গুন করলেন। প্রথম শব্দ উচ্চারণের পরই থেমে গেলেন তিনি কিছুতেই মনে করতে পারছিলেন না। এরপর ইয়েটস শুরু করলেন আয়ারল্যান্ডের জাতীয় সংগীত গাইতে। তিনিও ব্যর্থ হলেন। উপস্থিত ছিলেন ওয়েলসের কবি আর্নেস্ট রাইস। তিনি চেষ্টা করলেন ওয়েলসের জাতীয় সংগীত গাইতে। তারও একই অবস্থা। রদেনস্টাইন নিজেও ‘গড সেভ দ্য কিং’ গাইতে চেষ্টা করে থেমে গেলেন।

’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’

এনিওয়ে, #পৃথিবীর সব বউকে ভালোবাসা! 😎
একটা শব্দ এদিক ওদিক হলে কিন্তু সংসার পর্যন্ত ভেঙে যেতে পারে!! প্রুফরিডিং নিয়ে প্রচুর মজার ঘটনা আছে। আবদুশ শাকুরের নিজের মুখে শোনা। তাঁর একটা বইয়ের নাম ‘শারীর’৷ প্রতিবার প্রুফ রিডার কেটে ‘শরীর’ করে দেন, আবদুশ শাকুর ঠিক করে দেন, আবার প্রুফরিডার কেটে ‘শরীর’ করে পাঠান। ফাইনালি প্রুফরিডার মনে করলেন বড়ো কোনো গণ্ডগোল হচ্ছে লেখকের, তিনি এবার ‘নারীর’ করে প্রিন্টে পাঠিয়ে দেন।

Leave a Comment Cancel reply

© All Rights Reserved By: Mojaffor Designed & Developed By Webcode Technology