Mojaffor Hossain

Mojaffor Hossain

Mojaffor Hossain

Fiction Writer & Literary Critic
  • Home
  • About
    • Biography
    • About Me
  • Writings
  • Book Lists
  • Awards List
  • Books
  • Interviews
  • Donate
  • Reader-Opinion
  • Gallery
  • Contact me
বিশ্বসাহিত্যের কথা

বইটি প্রকাশ করেছে বেঙ্গল পাবলিকেশনস।

Muhim Monir
...গল্পের আদলে এমন করেই সাহিত্যের স্বরূপটা পাঠকের সামনে উন্মোচন করছিলেন তিনি তার ‘সাহিত্যের কাজ অকাজ’ প্রবন্ধে। এটি তার ‘বিশ্বসাহিত্যের কথা’ বইটির প্রথম প্রবন্ধ। অমর একুশে বইমেলা-১৮ উপলক্ষে বইটি প্রকাশিত হয়েছে বেঙ্গল পাবলিকেশনস থেকে। মেলার দ্বিতীয় দিন সংগ্রহ করলেও ব্যক্তিগত কিছু ব্যস্ততার কারণে বইটি অপঠিতই থেকে যায় বেশ কয়েকদিন। তারপর এরইফাঁকে একবার শুরু করলাম। হয়তো প্রথম প্রবন্ধটি পড়েই উঠে যেতাম। কিন্তু না, তা আর হল না। বইটিই আমাকে আটকে রাখল পড়ার টেবিলে। আর আমার অন্তর্লোকে উদ্ভাসিত হতে থাকল রবীন্দ্রনাথের ‘রতন’ থেকে নিয়ে রলিংসের ‘জেরি’। ‘পোস্টমাস্টার’ আর ‘আ মাদার ইন ম্যানভিল’-এর মতো তলস্তয়ের ‘ডেথ অব ইভান ইলিচ’ আর কাফকার ‘মেটামরফোসিসে’ও আগ্রহ জন্মাল পুনঃপাঠের। যেন আবার নতুন করে দেখলাম শহীদুল জহিরের সেই ‘কাঠুরে ও দাঁড়কাক’কে। আর হেমিংওয়ের ‘বৃষ্টিভেজা বেড়াল’, জেমস জয়েসের ‘এরাবি’ কিংবা কেট শপার ‘এক ঘণ্টার গল্প’ এসব নিয়ে আলোচনা তো আছেই। বিশটি প্রবন্ধের মধ্যে উপন্যাস বিষয়ক প্রবন্ধ সাতটি, গল্প বিষয়ক নয়টি আর বাকি চারটির তিনটি চারজন বিশ্ববিশ্রুত সাহিত্যিক ও তাদের সাহিত্যকর্ম নিয়ে এবং শেষ প্রবন্ধটি হচ্ছে, ‘অনুবাদের তত্ত্ব ও প্রসঙ্গ কথা’। সবমিলিয়ে একমলাটেই অনেক কিছুর প্রাপ্তি ঘটে পাঠকের। বইটির ‘কুন্দেরার আধুনিক উপন্যাস ভাবনা’ থেকে জানতে পারি, ‘অনেক পাঠক ইন্টারনেটে জানিয়েছেন যে, কুন্দেরার এই বইটি দি আর্ট অব নভেল তাদেরকে কাফকা, প্রুস্ত, বালজাক, ফ্লবেয়ার, ভলতেয়ার, মান, মুসিল প্রমুখ লেখককে পুনঃপাঠে অনুপ্রাণিত করেছে।’—অনেকটা এমনই কথা খাটে মোজাফ্ফর হোসেনের এই বইটির বেলাও। কাজুও ইশিগুরো, মিলান কুন্ডেরা, হুয়ান রুলফো, হারপার লি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রেলিংস, হেমিংওয়ে, জেমস জয়েস, কেট শপা, মুরাকামি, কাফকা, শহীদুল জহিরসহ অন্যান্য প্রভাবশালীদের গল্প-উপন্যাস নিয়ে, সাহিত্যের নানা তত্ত্ব-তথ্য-উপাত্ত নিয়ে, পাণ্ডিত্যপূর্ণ অথচ প্রাঞ্জল আলোচনা করেছেন এই সাহিত্যালোচক তার ‘বিশ্বসাহিত্যের কথা’য়। তাই তার ‘রবীন্দ্রনাথ ও রলিংস: ছোটগল্পের অভিন্ন কথক’ প্রবন্ধটি আগেও কয়েকবার পড়ার পরও আবার পড়ি। যেমন বারবার পড়ি রবীন্দ্রনাথের ‘পোস্টমাস্টার’। লেখাটি পড়তে গিয়ে বেশ কয়েক বছর আগে পড়া মারজরি কিনান রলিংসের ‘আ মাদার ইন ম্যানভিল’-এর সেই জেরি সমুজ্জ্বল হয়ে ওঠে আমার কল্পাকাশে। গতানুগতিক প্রবন্ধের কাছ থেকে যেটা পাবার প্রত্যাশা খুব একটা করা যায় না। যেন গল্প করছেন, এমন করেই আলোচিত হয়েছে একেকটি প্রবন্ধ। তাই একবার শুরু করলে পুরো বইটা পড়ার স্পৃহা পেয়ে বসে পাঠককে। প্রবন্ধের বই মানেই রসকষহীন কাঠখোট্টা, ওমা ওর ধারেকাছেও যাস নে যেন—এমন ভয়ে আমরা যারা সিটিয়ে থাকি, তাদের জন্য গদ্যে একনদী প্রাঞ্জলতা এনেছেন মোজাফ্ফর হোসেন। পাঠকমাত্রই তাই সে-নদীতে সাঁতরাতে পারে, ডুব দিয়ে আহরণ করতে পারে মণিমাণিক্য। আর মাঝেমাঝেই চমকে ওঠে, ‘একি! আমি প্রবন্ধের বই পড়ছি, নাকি গল্পের?’ চমকে ওঠাটাও স্বাভাবিক। কেননা এই কৃতী প্রাবন্ধিক আবার সুদক্ষ গল্পকারও বটে। অবশ্য মোজাফ্ফর হোসেন তার ‘লেখকের নিবেদনে’ অর্থাৎ বইটির ভূমিকায় বলেও দিয়েছেন সে-কথা, ‘ছোটগল্প আমার সাহিত্যচর্চার মূলক্ষেত্র। সেই কারণে আমি প্রবন্ধ লিখতে চেয়েছি কিছুটা গল্পের গদ্যে। প্রচলিত প্রবন্ধের গুরুগম্ভীর ভাব বা মেজাজ যাই বলি না কেন, আমার প্রবন্ধে অনুপস্থিত। এতে প্রবন্ধে খামতি কিছুটা ঘটতে পারে। তবে সহজবোধ্য বা উপাদেয় হলো কিনা সেটিই আমার কাছে বিবেচ্য বিষয়।’—তার বিবেচনা যথার্থ, বইটির একজন পাঠক হিশেবে এ আমার অকপট অভিমত। আর তাছাড়া আমরা যারা সাহিত্যাকাশ সম্পর্কে কৌতূহলী; আমরা যারা চন্দ্রনাথ হতে না-পারলেও জ্যোৎস্নাচারী হতে চাই; তারা অনেক কিছুই পাই এই বইটি থেকে। তাই মোজাফ্ফর হোসেনের পরিশ্রমের তেমন কোনো ফাঁকফোকর আমাদের চোখে পড়ে না। আমরা বরং বিমুগ্ধ হই তার প্রকাশশৈলীর কৌশলে, প্রচেষ্টার প্রগাঢ়তায়।

© All Rights Reserved By: Mojaffor Designed & Developed By Webcode Technology