মানুষের মাংসের রেস্তোরাঁ
বইটি প্রকাশ করেছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশনস
Hafizur Rahman
'স্যাটায়ার(Satire) কারে বলে' এই প্রাথমিক ধারণা যদি কারোর না থাকে তবে সোজা মোজাফ্ফর হোসেনের "মানুষের মাংসের রেস্তোরাঁ" বইটার কাছে যেতে হবে। চোখ-কান খোলা এবং কাঁধের উপর মাথার অবস্থান নিশ্চিত করে পড়ে ফেলতে হবে বইটা। Horation,Juvenalian ও Menippean Satire না বুঝলেও স্যাটায়ার এর মৌলিক বিষয়বস্তু গেঁথে যাবে মাথায়। রিভিউ/স্পয়লার/অ্যানালাইসেস/ডিসকাশন যা কিছুই করতে যাবো এই বই নিয়ে তা আমার কাছে মোটামুটি দুর্গম, যদি করতেই হয় তবে এর ভেতরের প্রতিটা লেখা নিয়ে আলাদা আলাদা প্রবন্ধ লিখতে হবে। বইয়ের প্রতিটা গল্প চোখধাঁধানো, ঝাঁজ আছে বেশ,তবে বইয়ের নাম গল্পটা পড়ে মনে হয়েছে লেখক Jonathan Swift এর লেখা থেকে অনুপ্রাণিত(fictiuos thinking) হয়ে লিখেছেন। যুগোপযোগী গল্পের মধ্যে বাংলা ভাষার ব্যবহারে এমন শক্তিশালী স্যাটায়ার নিঃসন্দেহে প্রসংশার দাবীদার। এতোগুলো দেখেও যদি ভাবেন পড়বেন কি না, তাহলে খোলাখুলি ভাবেই বলি; অবশ্যই অবিলম্বে পড়ে নিন বইটা।
SaZib Bhuiyan
মানুষের মাংসের রেস্তোরাঁ " নাম দেখে মনে হবে এই যা কি বিকৃত নাম! কিন্তুু বিশ্বাস করেন নাম যেমন হোক ভিতরে গল্পগুলো ভয়কংর সুন্দর। এই অদ্ভুদ নামকরণের স্বার্থকতা ১২০ পৃষ্ঠা বইয়ের ২১ টি ছোট গল্প পড়লেই বুঝতে পারবেন।
বর্তমানে আমি ছোট গল্প বলতে একজনের নামই জানি শাহাদুজ্জামান। কিন্তুু এই বইটি পড়ে বুজলাম না আরেকজন আছে যার গল্পে ফুটে ওঠে ডার্ক হিউমার, ধর্ষণ, ব্যক্তি স্বাধীনতা, করোনার ভয়বহতা ও বেকার জীবন।
বইটির ক্ষেত্রে একটা বার্তা দিতে চাই বইয়ের গল্পের প্যাটার্ন প্রায় সেইম মনে হয়েছে।সেক্ষেত্র টানা না পড়ে সময় নিয়ে পড়লে মনে হয় গল্পের স্বাদ পরিপূর্ণ পাওয়া যাবে। ব্যস্ততার কারণে আমার হার্ডকপি মাসে ১/২ টার বেশি পড়া সম্ভব হয়ে উঠে না। বেশি সময় কাটে সফট কপিতে, সে সুবাদে আমি বেশ সময় নিয়ে গল্প গুলা পড়েছি এবং মুগ্ধ হয়েছি।
লেখক Mojaffor Hossain ভাইয়ার " তিমিরযাত্রা " বইটি প্রথম পড়ে লেখকের লেখা ফ্যান হয়েছি। ডার্ক জিনিসটা কি চমৎকার ভাবে ব্যবহার করে থাকে সেটা বুঝতে পারলাম। তাই তো এই অদ্ভুদ নামের বইটির প্রতি আরো আগ্রহ জন্মেছে। ডার্ক হিউমার ও ভায়োলেন্স ভরপুর বইটি যারা এইসব নিতে না পারেন, তাদের বইটি পড়া দরকার নাই। বিশেষ করে ছোটদের এই বই থেকে দূরে থাকা উচিত।
MI Zazafee
"আজ পড়ে শেষ করলাম মোজাফফর হোসেন রচিত "মানুষের মাংসের রেস্তোরাঁ" বইটি। বইটি সম্পর্কে প্রথমে জানতে পেরেছিলাম লেখক ইকরাম কবীরের এক পোষ্ট থেকে। তিনি বইটি পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলেন। গত চার বছর ধরে ইকরাম কবীরের পছন্দ হয়েছে এমন অধিকাংশ বই আমি কিনেছি। এর পর দেখলাম চলচ্চিত্র পরিচালক অনন্য মামুন লিখেছেন এই বইয়ের গল্প নিয়ে সিনেমা বানাবেন। বইয়ের নামটাও অন্যরকম দেখে আমারও আগ্রহ জন্মালো,তাছাড়া মোজাফফর হোসেনের আরও বই আমি পড়েছি তাই ভাবলাম এটিও পড়ি। বইটা পড়তে শুরু করার পর প্রথম গল্পেই যে চমক দেখলাম তা আমাকে মনে করিয়ে দিলো বিখ্যাত লেখক সাদাত হোসাইন মান্টোর কথা। এই ঘরানার লেখার সাথে তিনিই পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। প্রতিটি গল্পই ভালো হয়েছে। কোন কোনটি খুবই ভালো লেগেছে আবার কোন কোনটি প্রথম গল্পের মত চমক সৃষ্টি করতে না পারলেও সমাজকে পরোক্ষভাবে চপেটাঘাত করেছে। যেমন বাক স্বাধীনতার এক চরম দৃষ্টান্ত গল্পটিতে ফ্রিল্যান্ড নামের আড়ালে বাংলাদেশের কথাই তুলে ধরেছেন। সমাজের নানা অসংগতি যেমন ফুটে উঠেছে তেমনি জুলুম নির্যাতন,অসমতা,স্বাধীনতাহীনতা,দরিদ্রের আর্তনাদ,মজলুমের আহাজারি,ক্ষমতার অপব্যবহার সব গল্পে গল্পে ফুটে উঠেছে। অনেক গুলো গল্প পড়তে শুরু করে মাঝপথেই বুঝতে পেরেছি কী ঘটতে যাচ্ছে। মোট কথা বইটি ভালো লাগার মত। কিছু গল্প সাধারণ পাঠক সহজে বুঝে উঠতে পারবে না কারণ এর অনেকগুলো কিংবা সব গল্পই মূলত রুপক। গল্পে যা বলা হচ্ছে সেটাই সব নয় বরং গল্পের ছলে লেখক গভীর ভাবে কিছু বিষয়,ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন।"
আলভী আহমেদ, নির্মাতা-লেখক-অনুবাদক
“কফি খেতে খেতে পড়া শুরু করেছিলাম। দ্বিতীয় গল্পে এসে মগে চুমুক দিতে ভুলে গেলাম। চোখ আটকে গেল।…কল্পনা এবং বাস্তবের সীমানা গুলিয়ে ফেললাম। রাতের আঁধারে এক দেশ দখল করে ফেলল আরেক দেশকে। মাথাবিহীন জগতে ডুবে গেলাম।…গল্প বলতে এসে যারা গল্প বলে না মোজাফ্ফর হোসেন সেই দলের নন মোটেই। তার গদ্য ভাষার মধ্যে বানিয়ে তোলা কোনো ব্যাপার নেই। বর্ণনাভঙ্গি আশ্চর্যরকম নিস্পৃহ।…পাথরের হৃদয় নিয়ে চরিত্রগুলোর যন্ত্রণা লিখে গেছেন। কোনো এক অলৌকিক উপায়ে সেই গল্প হয়ে গেছে আমার গল্প।”
Mahmudul Hasan
প্রথমেই নগ্নভাবে ধরা দেয় বইয়ের অদ্ভুত নামটি, প্রচণ্ড আগ্রহ ও কৌতূহল বোধ করি। সাধারণত ফ্ল্যাপের লেখা পড়া হয়না, সূচিপত্রও পড়িনা—প্রায়শই তাতে চুম্বক অংশ দৃষ্টিগোচর করতে গিয়ে বইয়ের মূল আকর্ষণ কম্প্রোমাইজড হয়ে যায়।
প্রথম গল্প "একটি খুনের স্বীকারোক্তি" পড়তে গিয়ে ধাক্কার মতো খাই। গল্প শেষে হতবাক হয়ে ভাবি—এটা কী হলো! ফিরে গিয়ে ফ্ল্যাপের টেক্সট পড়ে নিশ্চিত হই এই গল্পগ্রন্থ পুরোটা শেষ না করে রাখতে পারবোনা। এরপরে গোগ্রাসে গিলতে থাকি একটার পর একটা গল্প!
একেক গল্প একেকভাবে ভাবনাকে আন্দোলিত করে। "করোনা, মৃত্যুর আগে ও পরে" গল্প যখন ফোর্থ ওয়াল ব্রেক করে আমি পাঠককে জিজ্ঞাসা করে—কীভাবে মারা গেছি—আমি সত্যিই ধন্দে পড়ে যাই! আসলেই তো আমার মৃত্যু কীভাবে হলো, কী বা কে দায়ী আমার আত্মার মৃত্যুর জন্য?
রূপক বা পরাবাস্তবতার জাদুতে একেকটা গল্প মোড়ানো। চরিত্রগুলোর সাথে সাথে আমিও ভাবি আমার মাথা নেই—তাইতো আমি কিছু দেখিনা, শুনিনা বা বলতে পারিনা। কিংবা আমার মাথায় বাক-স্বাধীনতার চিপ ইমপ্ল্যান্ট করা হয়েছে, এই বুঝি দশ মাত্রার ভাইব্রেশনে অকেজো হয়ে গেলাম। মাথাটা অবশ্য ইতোমধ্যেই কোথাও বিকিয়েছি কিনা বলতে পারিনা!
সমাজের অবক্ষয়, ঘুণে ধরা, মরিচা পড়া সিস্টেমের ভগ্নদশার জলজ্যান্ত পোস্টমর্টেম যেন এই গল্পগ্রন্থ। অদ্ভুতভাবে কৌতুকপূর্ণ ও হাস্যকর অভিজ্ঞতাও হয় গল্পগুলো পড়লে। হতে পারে সেটা সিসিফাসের ঈশ্বরের হাসি!
দুর্দান্ত বই, ঝরঝরে লেখা, লেখকের সব বই দ্রুত সংগ্রহ করার ইচ্ছাপোষণ করি।
