অতীত একটা ভিনদেশ
এক্সিম ব্যাংক অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৬ জয়ী ছোটগল্পের সংকলন। প্রকাশ করেছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশনস। প্রচ্ছদ ধ্রুব এষ।
লেখক সালাহ উদ্দিন মাহমুদ:
মোজাফ্ফরের গল্প চিন্তায় গভীর, কল্পনায় অসীম, চেতনায় ব্যতিক্রম। অনেকটা আধুনিকতাকে ছাপিয়ে বহুদূর অগ্রগামী বলে মনে হতে পারে। ফলে তার গল্প সংকলন নিঃসংশয়ে সময়ের এক ব্যতিক্রমী গল্প সংকলন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তার তৃতীয় গল্পগ্রন্থ ‘অতীত একটা ভিনদেশ’ এ মোট ১৪টি গল্প রয়েছে। ‘বাঁশিওয়ালা মজ্জেল’ গল্পে দুজন মানুষ কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে আলাপ করছেন তাদের অতীত জীবন নিয়ে। দুজনই মৃত। তাদের কথার ভেতর দিয়ে ক্ষয়ে যাওয়া সময়ের চিত্র ফুটে ওঠে। ‘একটা কুকুর অথবা একজন কবির গল্প’ অবসরপ্রাপ্ত ইংরেজির অধ্যাপক ড. রেজাউল করিমের হাত ধরে এগিয়ে যায়। তবে গল্পে নানা বাঁক পেরিয়ে অবশেষে ভিনদেশের মতো এই দেশটাও তাঁর অচেনাই রয়ে গেল। ‘ভ্যাদা কবির প্রস্থান কবিতা’ গল্পে লেখকের চিরচেনা নিশ্চিন্তপুর গ্রামের দেখা মেলে। তার কোনো কোনো চরিত্র বাস্তবতা থেকে নেওয়া। এই ভ্যাদা কবিও তাদের একজন। ‘লাশটি জীবিত বাকিরা মৃত’ শিরোনাম দেখে একে নিঃসন্দেহে অতিপ্রাকৃত গল্প মনে হতে পারে। তবে সে সিদ্ধান্তে যাওয়া অতটা সহজ নয়।
কথাসাহিত্যিক মঈনুল আহসান সাবের
“পাঠক যখন মোজাফ্ফরের গল্প পাঠে আছেন, পড়ছেন তার কোনো গল্প, হঠাৎই অস্বস্তিত্বে পড়তে পারেন—গল্পটি শেষ হয়ে গেল না কেন, কিংবা কেন শেষ হলো এখানে। পাঠক গল্পটি যখন শুরু করেছিলেন, তখনো হয়তো এই একই বিস্ময় ও ঘোরে আক্রান্ত ছিলেন—গল্পটি এভাবে কেন শুরু হলো। বস্তুত, গল্প মোজাফ্ফর হোসেন কোথায় শুরু করবেন, কোথায় শেষ, তা শুধু তিনিই জানেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা পাঠকের পক্ষে অনুমান করা কঠিন...মোজাফ্ফর হোসেনের বড় বৈশিষ্ট্য, একটি সম্পূর্ণ আলাদা নির্মাণজগৎ তিনি আয়ত্তে আনার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বাস্তব-অবাস্তব-পরাবাস্তব, যেন সত্য ও মিথ্যা কিংবা মিথ্যা না-র এক অদ্ভুত মিশ্রণে তিনি নিজেকে আলাদা করে ফেলেন।”
কথাসাহিত্যিক জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত
"তাঁর (মোজাফফরের) গল্পের আপাতসরল কাঠামো, সাবলীল বর্ণনাভঙ্গি পাঠককে দ্রুত গল্পের ভুবনে প্রবেশ করিয়ে দেবে যদিও সামান্য সময় পার হলেই তিনি সম্মুখীন হবেন নানা সম্ভাবনার, বহুকৌণিক গল্পজগতের। সচেতন পাঠক সেটিকে পরাবাস্তব, যাদুবাস্তব বা অতি-আধুনিক গল্পের জগৎ--যে-নামেই চিহ্নিত করুন না কেন, গল্পের পাঠতৃপ্তি কি পাঠ্যযোগ্যতা বিন্দুমাত্র ব্যাহত হয় না তাতে।"
কথাশিল্পী জাহানারা নওশিন
“...আমরা এতদিন জানি, গল্পই হোক আর উপন্যাসই হোক বিষয়বস্তু বিস্তারে নির্মাণ বলে একটা ব্যাপার আছে তার একটা কর্মও আছে, কিন্তু মোজাফ্ফরের গল্পে নির্মাণ বলে কিছু নেই সমস্ত বিষয়টি ভেঙেচুরে দিয়ে যা তিনি সৃষ্টি করে ওঠেন, তা যেন অস্থিহীন একটি অবয়ব। যেন ‘দেহহীন লাবণ্য বিলাস’। অবয়বটিও যেন বায়বীয় স্বপ্ন আর ঘন কুয়াশার ভেতর দিয়ে দেখা বাস্তবের প্রায় বিলীয়মান বাস্তব।”
