তখনো বাংলা গদ্যে ইসলামচর্চা শুরু হয়নি, প্রকাশিত হয়নি কোরানশরিফের পূর্ণাঙ্গ বাংলা অনুবাদ। খ্রিষ্টধর্ম প্রচারে নিয়োজিত খ্রিষ্টান মিশনারির উদ্যোগে হজরত মোহাম্মদ (সা)-এর জীবনী বিকৃতরূপে প্রকাশ করে ইসলাম সম্পর্কে অপপ্রচার করা হচ্ছে। সেই সময় হিন্দুসমাজ থেকে কয়েকজন পণ্ডিত ব্রাহ্মসমাজের আদর্শে দীক্ষিত হয়ে আধুনিক বাংলা গদ্যে নবীজীবনী ও ইসলাম-সম্পর্কিত রচনায় হাত দিলেন। গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হলো বাংলা ভাষায় কোরানের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ, হজরত মোহাম্মদ (সা)-সহ গুরুত্বপূর্ণ চার নবী ও খলিফাদের প্রথম জীবনী, হাদিসগ্রন্থের অনুবাদ। এসব গ্রন্থ রচনার পেছনে ব্রাহ্মসমাজের ভূমিকা কেমন ছিল, নন-মুসলিম হয়েও তাঁদের ইসলামধর্ম-চর্চার উদ্দেশ্যই-বা কী ছিল, তা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি এই গ্রন্থে ইসলামধর্ম ও হজরত মোহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দৃষ্টিভঙ্গি ও মুসলমান প্রজাদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের চিত্রটা উঠে এসেছে সবিস্তারে।
এই গ্রন্থে সাম্প্রতিক সময়ে চর্চিত বেশ কিছু বিতর্কের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন। সমাজ বদলে সাহিত্যের ভূমিকা কী হতে পারে, লেখক কোন্ মানুষের জন্য লিখবেন, কার কথা লিখবেন, শিল্পের নন্দনতত্ত্বের সঙ্গে লেখকের সামাজিক অ্যাক্টিভিজমের কোনো দ্বন্দ্ব আছে কি না প্রভৃতি প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। বাংলা সাহিত্যের আন্তর্জাতিকীকরণে প্রতিবন্ধকতা ও সাহিত্যের রাজনীতি নিয়েও আলোচনা করেছেন তিনি।
সকল বয়সি চিন্তাশীল পাঠককে অনেক বিষয় নতুন করে ভাবতে সাহায্য করবে।
Leave a Comment