Mojaffor Hossain

Mojaffor Hossain

Mojaffor Hossain

Fiction Writer & Literary Critic
  • Home
  • About
    • Biography
    • About Me
  • Writings
  • Book Lists
  • Awards List
  • Books
  • Interviews
  • Donate
  • Reader-Opinion
  • Gallery
  • Contact me
Writings Details

ব্যক্তির অ্যাক্টিভিজম বনাম শিল্পের অ্যাক্টিভিজম

Published On June 26, 2023
Mojaffor Hossain
Mojaffor Hossain
Contributor

ব্যক্তির অ্যাক্টিভিজম সব সময় গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু শিল্পের অ্যাক্টিভিজম ব্যক্তির সাময়িক অ্যাক্টিভিজমের চেয়ে বড়ো—চিরকালীন। যে কারণে ব্যক্তি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যু হলেও তাঁর শিল্প শত শত বছর ধরে অসাম্প্রদায়িক মানবিক রাষ্ট্র ও মনন গঠনে কাজ করে যাবে, লাখ লাখ ‘ব্যক্তি অ্যাক্টিভিস্ট’ উদ্ধৃত করবে তাঁর কবিতা। তাই, আমরা যেন ব্যক্তি অ্যাক্টিভিজমের নামে শিল্পের গলা চেপে ধরতে না যাই, তাহলে বৃহত্তর সময়ের প্রেক্ষাপট অ্যাক্টিভিজমটা হালকা হয়ে যাবে। আমার বোঝার অক্ষমতার দায় যেন শিল্পকে বহন করতে না হয়। উদ্দেশ্য হয়তো মহৎ–কিন্তু আমার শিল্পের ভাষা বোঝার অক্ষমতা শিল্পের জন্য হুমকিস্বরূপ, বৃহত্তর অ্যাক্টিভিজমের জন্যও। আদালত আছে বলেই এবং মামলা করার বয়স হয়েছে বলেই, আমি দুম করে কোনো বই/সিনেমা/চিত্রকলা/নাটকের নামে মামলা ঠুকে দিতে পারি না।

শিল্পে ‘অ্যাক্টিভিজমের’ বিষয়টি নানাভাবে আসে। মোটাদাগে বিষয়টিকে তিন ভাবে দেখা যেতে পারে।

ধরুন: সতীদাহ প্রথা যখন চালু ছিল তখন সেই প্রথার প্রেক্ষাপটে তিনটি টেক্সট লেখা হলো।

প্রথম টেক্সটে দেখা গেল, সহমরণে যেতে আপত্তি করল কোনো বিধবা। বা এই প্রথার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসল তার পরিবার। শেষ পর্যন্ত প্রশ্নের মুখে পড়ে গেল প্রথা ব্যবস্থাটা।

দ্বিতীয় টেক্সটে দেখা দেখা গেল, কেউ প্রতিবাদ করল না। কিন্তু সতীদাহের বিভৎসতা এমনভাবে তুলে ধরা হলো যে পাঠক পড়ে আৎকে উঠলেন।

তৃতীয় টেক্সটে দেখা গেল, লেখক সতীদাহ প্রথার উচ্ছ্বসিত প্রসংশা করছেন। সতীদাহ প্রথা গ্রহণের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ছে নারীসমাজ। স্বামী সামান্য অসুস্থ হলেই সেবা না করে চিতা সাজিয়ে অপেক্ষা করছে। এমনকি, সহমরণের জন্য স্বামীকে হত্যা করতেও পিছুপা হচ্ছে না স্ত্রীরা। বউদের এই এগ্রেসিভ আচরণে পুরুষরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ল।

এখন, এই তিনটা টেক্সটই সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে কথা বলছে। প্রথমটা প্রত্যক্ষ প্রতিবাদ। দ্বিতীয়টা পরোক্ষ প্রতিবাদ। পরোক্ষ এই জন্য, বাস্তবে যা ঘটছে সেটা দেখিয়েই আপনার মধ্যে জিজ্ঞাসা তৈরি করছেন লেখক। লেখক চাচ্ছেন গল্পের ভুক্তভোগী না, পাঠক হিসেবে প্রতিবাদটা যেন আপনিই করেন। লেখক নিজে থেকে কোনো মন্তব্য করছেন না।

তৃতীয় টেক্সটটি সতীদাহ প্রথাকে স্যাটায়ার করছে। সতীদাহ প্রথাকে উৎসবের মতো উদযাপন করার ভেতর দিয়ে ভংয়কর ভাবে সিস্টেমকে আক্রমণ করছেন লেখক। সাহিত্যের এই স্টাইলটা সব সময় ঝুঁকিপূর্ণ। পাঠককের ভুল বোঝার অবকাশ থাকে। আবার একিসঙ্গে সবচেয়ে কার্যকরীও। একটা উদাহরণ দিলে পরিস্কার হবে: জোনাথন সুইফটের ‘এ মডেস্ট প্রপোজাল’ শীর্ষক স্যাটায়ার প্রবন্ধের কথা স্মরণ করছি। ডাবলিনে ভিখারি ও পথশিশুদের সংখ্যা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় সুইফট প্রস্তাব দিলেন, এই সব শিশুকে বিত্তশালীদের টেবিলে পরিবেশন করতে। অবশ্যই খাবার হিসেবে। তাদের গরুছাগলের মতো চাষ করার সুবিধাগুলোও খুব সুন্দর করে অংক কষে বুঝিয়ে দিচ্ছেন। এত সিরিয়াসলি বলছেন যে অনেক পাঠক তার প্রস্তাবকে সত্য ভেবে এই লেখাকে বর্জন করলেন। বিপরীতে দেখা গেল, এই লেখা শাসক ও বিত্তশালীরাও গ্রহণ করতে পারল না। তাহলে গ্রহণ করল কারা? সময়। একটা সময় দেখা গেল, এর চেয়ে বড়ো ‘প্রটেস্ট’ বা বৈষম্যবিরোধী টেক্সট পৃথিবীর সাহিত্যে কমই আছে। এইভাবে কেউ কথিত এলিট ও শাসকশ্রেণিকে নগ্ন করে দেখাতে পারেনি। আরেকটা গল্পের কথা বলার লোভ সামলাতে পারছি না। কেট শপার ‘স্টোরি অব এন আওয়ার’। গল্পে এক স্ত্রী তার স্বামীর মৃত্যুসংবাদ পেয়ে কাঁদছে। কাঁদতে কাঁদতে সে অনুভব করছে সে এখন স্বাধীন। ‘স্বামী’ নামক তার কোনো অধিকর্তা নেই। কাঁদতে কাঁদতে সে ভেতর থেকে স্বাধীনতা উপভোগ করতে শুরু করেছে৷ এরিমধ্যে ঘর থেকে বের হয়ে দেখে স্বামী সিঁড়ির নিচে দাঁড়িয়ে। উল্লিখিত সড়ক দুর্ঘটনায় আসলে স্বামীর মৃত্যু হয়নি। স্ত্রীই তখন হার্ট অ্যাটাকে মারা যায়। ডাক্তার বলেন, স্বামীকে জীবিত দেখে অতি আনন্দে মারা গেছেন। লেখক তার জায়গায় নিরাপদ জোনে থাকলেন। কিন্তু পাঠক ঠিকই ধরে ফেললেন। নারী স্বাধীনতা ঠিক আছে, তাই বলে স্বামীর মৃত্যু উদযাপন? শুরু হলো হৈচৈ, গল্পটি নিষিদ্ধকরণে দাবি উঠল। আজ পৃথিবীতে অন্যতম শ্রেষ্ঠ নারীবাদী টেক্সট হিসেবে গল্পটি পড়ানো হচ্ছে।

ফিরে যাচ্ছি সতীদাহপ্রথা অবলম্বনে কল্পিত তিনটি টেক্সটে। আপনি চাইলে হিউম্যানিস্ট হিসেবে নারী নির্যাতন ও বিভৎসতার জন্য দ্বিতীয় টেক্সটের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন।

আপনি নারীবাদী হিসেবে তৃতীয় টেক্সটে নারীকে অবমাননা করা হচ্ছে, নারী সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা দেওয়া হচ্ছে, ইত্যাদি ইত্যাদি অভিযোগে এটির বিরুদ্ধেও মামলা ঠুকে দিতে পারেন।

আদালতে আপনার আইজীবী হয়তো পেশাগত দায়িত্ব থেকে প্রমাণ করে দেবেন আপনার অভিযোগ যথার্থ। আদালত সেই ভিত্তিতে নিষিদ্ধ করে দিতে পারেন টেক্সটটি।

এখন প্রশ্ন হলো, আপনি আদালতে যাবেন কিনা? যেহেতু আপনি অ্যাক্টিভিস্ট–হয় নারীবাদী, নয়তো মানবতাবাদী অথবা প্রকৃতিবাদী। ফলে আদালতের শরণাপন্ন আপনি হতেই পারেন।

কিন্তু, ভাই/বোন, শিল্প সাহিত্য হাজার হাজার বছর অতিক্রম করে এসেছে। যে মডেস্ট প্রপোজালের কথা বললাম, সেটি প্রায় তিনশ বছর আগে লেখা হয়েছে। স্টোরি অব এন আওয়ার লেখা হয়েছে প্রায় দেড়শ বছর আগে। শিল্প-সাহিত্যকে এখন বহুকৌণিক দৃষ্টিকোণ থেকে পাঠ করা হচ্ছে। তাই পাঠক বা দর্শক হিসেবে আপনার অপরিণত হওয়ার দায় আপনি দয়া করে শিল্পীর উপর চাপাবেন না। সিনেমা বা সাহিত্যে খাঁচায় পাখি দেখলেই মামলা করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়বেন না। আগে বোঝার চেষ্টা করবেন, পাখিটা রাখছে যে চরিত্র তার মানস-গঠনে সমস্যা আছে কিনা! সমাজের কোনো চরিত্রের প্রতিফলন তার মধ্যে ঘটছে কিনা। সবচেয়ে বড়ো কথা, কনটেক্সটের মধ্যে মোরাল জাস্টিফিকেশন আছে কিনা। এইসব বোঝার সক্ষমতা যদি আপনার নাও থাকে তাহলে যদি দেখেন, পাখিটির খাঁচাবন্দিতে আপনি কষ্ট পাচ্ছেন, তাহলে বুঝে নেবেন, শিল্প সফল, আপনাকে ওই ধাক্কাটাই দিতে চাচ্ছে। এটাই প্রটেস্টের ক্লাসিক (শিল্পীত) ধরন।

Leave a Comment Cancel reply

© All Rights Reserved By: Mojaffor Designed & Developed By Webcode Technology